মো. জাকির হোসেন : ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাসপুরে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় ৫ ডাকাতকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে দোহার থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- দোহার উপজেলার কুলছড়ি এলাকার দাদন চোকদারের ছেলে রাকিব চোকদার(২৩), দোহার উপজেলার রাধানগর দক্ষিণ এলাকার শেখ লাল মিয়ার ছেলে বাচ্চু মিয়া(৩৪), উপজেলার কুলছুড়ি এলাকার শুকুর বেপারীর ছেলে হালিম বেপারী(৪৫), কুলছুড়ি এলাকার ইসমাইল বেপারীর ছেলে লিটন বেপারী(৪৫) ও উপজেলার আলমবাজার এলাকার সোনা মিয়ার ছেলে নাজির (৩৫)। বুধবার দুপুরে দোহার সার্কেলের সিনিয়র পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে এ তথ্য জানান। প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক দেড়টার সময় দোহার উপজেলার ৯ নং বিলাশপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকার বাদী মো. হানিফ শেখ(৩৩)এর বসত বাড়ীতে অজ্ঞাতনামা ১৪/১৫ জন সশস্ত্র ডাকাত শটগান, পিস্তল, চাকু, সাবল, রাম-দা সহ দেশীয় অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিল্ডিংয়ের নীচ তলার পূর্ব পাশের রুমে কাঠের তৈরি মেইন দরজা ও রুমের দরজা সাবল দিয়ে ভেঙ্গে রুমের ভিতর প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ও মারধর করে তার মায়ের কক্ষে থাকা খাটের তোষকের নিচে থেকে ৩ জোড়া কানের স্বর্ণের দুল, ওজন ২ ভরি, ৩টি স্বর্ণের চেইন, ওজন-২.৫ ভরি, একজোড়া স্বর্ণের রুলি, ওজন-২ ভরি, সর্বমোট ৬.৫ ভরি যার সর্বমোট মূল্য আনুমানিক-৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা লুট করে। এসময় স্থানীয় জনতা এগিয়ে এলে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। ভিকটিমের পরিবার ও স্থানীয় জনতা ডাকাত দলকে ধাওয়া করলে ডাকাত দল জনতার দিকে শটগানের গুলি করে ৭-৮ জন জনতাকে আহত করে পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয় জনতা ১ জন মাঝিকে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনি দিলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করে। উক্ত ঘটনায় বাদী দোহার থানায় এজাহার দায়ের করলে(মামলা নং- ১৭ তাং ২৭/০২/২০২৫ পেনাল কোড ৩৯৫/৩৯৭) মামলা রুজু হয়। অত্র মামলাটি রুজু হওয়ার সাথে সাথে ঢাকা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তপূর্বক মামলার রহস্য উদঘাটন, আসামি গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় দোহার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম এর তত্ত্বাবধানে দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে দোহার থানার একটি চৌকস দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে অত্র ডাকাতির সাথে জড়িত ৫ জন ডাকাতকে গ্রেফতার করে ও তাদের নিকট ডাকাতির সময় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ধৃত আসামিগণ প্রাথমিকভাবে অত্র ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে দোহার থানায় একাধিক চুরি ও ডাকাতি মামলা রয়েছে। তাদের যথাযথ প্রহরায় ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অত্র ঘটনার সাথে জড়িত অপরাপর আসামীদের গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।